হাসান মার্কেট, পুড়েছাই হয়ে যেতে পারে!
এম,এ,রউফ।। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধিন হাসান মার্কেট মার্কেট সিলেটের ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল তৎকালীন গোবিন্দচরণ পার্ক। এই পার্কটিকে তৎকালীন ডিসি এটিএম হাসান তার নামে হাসান মার্কেট পরিণত করেছিলেন । আজ সময়ের দাবী, সোনালী ইতিহাস কবর দিয়ে গড়ে উঠা এই হাসান মার্কেট।সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধিন এই হাসান মার্কেটিকে অপসারণ করে
সিলেটে ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র গড়ে তুলা হউক।
আর এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন মাথাব্যাথা আছে বলেও মনে হয়না।
যদি সিলেটে ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র একটি পার্ক করা হয় তাহলে সিলেট নগরীর সৌন্দর্য বর্ধিত হবে।নগরীর প্রবেশদ্বার প্রাণকেন্দ্রে সিসিকের নকেরডগায় (একবারে সামনে) ঝুপড়ির মতো আগাছা রেখে নগরীতে ডিজিটাল সৌন্দর্যময় সিলেট নগরী গড়া যাবেনা বলে মন্তব্য করেন অনেকেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে সিলেটের সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ীরা সময়ের জোরাল দাবী জানিয়াছেন।
হাসান মার্কেট অপসারণ করে এখানে সিলেটে ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র একটি পার্ক করা হউক।

এদিকে সামন্যতেই পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হাসান মার্কেট!
এতে যেমন সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, তেমনি ঘটতে পারে প্রাণহানীর ঘটনাও।
অগ্নিকান্ড প্রতিরোধের প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেই । সোনালী ইতিহাস কবর দিয়ে গড়ে উঠা এই মার্কেটে দোকান রয়েছে ৩০০টিরও বেশী।
গড়ে প্রতিটি দোকানে ২ জন করে কর্মচারী ধরলে প্রায় ৬শ\’ মানুষ। সাথে যোগ করুন শ\’শ\’ ক্রেতার কথা।
এমন একটি বড় মার্কেটের এতগুলো মানুষ আর কোটিকোটি টাকার সম্পদ সবসময় ঝুঁকির মুখে।
অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। আশপাশে পানির উৎসও নেই। হঠাৎ ছোটখাটো কোন অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলেও মুহুর্তেই তা ছড়িয়ে পড়বে গোটা মার্কেটজুড়ে। আর সরু-ঘিঞ্জি গলি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশও প্রায় অসম্ভব।
মার্কেট কর্তৃপক্ষ বা ব্যবসায়ী সমিতির এনিয়ে কোন মাথাব্যথা আছে বলেও কথাবার্তায় মনে হয়না।
সিলেটের মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের পোশাক ও মেয়েলি দ্রব্যাদির জন্য প্রধান ভরসার মার্কেট হচ্ছে হাসান মার্কেট।
সম্প্রতি সরজমিনে মার্কেট ঘুরতে গেলে দেখা যায়, ঘিঞ্জি পরিবেশ। একেবারে ঠাসাঠাসি অবস্থা। পর্যাপ্ত হাঁটার জায়গা ও নেই।

অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবেলায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসান মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিম বলেন, এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের কাছে লিখিত কোন দরখাস্ত করিনি। তবে ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলেছি। তারা সার্বিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি জানান, ৬/৭ মাস হলো ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মহড়া করেছেন।
সমিতির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের অভিযোগ, মার্কেটের আর্থিক বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের তোড়জোড় হম্বিতম্বি থাকলেও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারে তারা ততটাই উদাসীন।
ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে তারা এককভাবে তার সকল দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের বলে জানান। ক্রেতা আর তাদের নিজেদের জানমালের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তাদের মতামতও প্রায় একই।